[পর্ব ১৬]ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।[আল-খৈয়াম:-বাইনমিয়েল থিওরেমের প্রথম আবিষ্কারক,এনালিটিক্যাল জ্যামিতির জনক] || TIPSGURUBD.COM

0


আসসালামু আলাইকুম

আশা করছি আপনারা সবাই আল্লাহর রহমতে ভালো আছেন।

আমার আগের সব পর্ব:-

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।পর্ব ১

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।পর্ব ২

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।পর্ব ৩

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।পর্ব ৪

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।পর্ব ৫

ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।পর্ব ৬

[পর্ব ৭] ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।[নাসির আল দীন আল তুসি:-ত্রিকোণমিতির স্রষ্টা,জিজ-ইলখানি উপাত্তের উদ্ভাবক]

[পর্ব ৮] ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।[আবুল ওয়াফা:-ত্রিকোণমিতির মূল স্থপতি]

[পর্ব ৯]ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।[আবু মারওয়ান/ইবনে জহুর:-পরভূক জীবাণু বিজ্ঞানের প্রতিষ্ঠাতা,পরীক্ষামূলক সার্জারির জনক, পরীক্ষামূলক শারীরবৃত্তীয়, মানুষের ব্যবচ্ছেদ, অটোপস এর অগ্রদূত]

[পর্ব ১০]ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।[আল মাওয়ার্দি:-বিশুদ্ধতম গণতন্ত্রের প্রবক্তা]

[পর্ব ১১]ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।[আল জাজারি:-মধ্যযুগের শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তিবিদ]

[পর্ব১২]ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।[আবুল কাসিম আল জাহারাবী:-অপারেটিভ/আধুনিক সার্জারীর জনক]

[পর্ব১৩]ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।[আব্বাস ইবনে ফিরনাস:-বিমানের জনক,প্রথম যিনি উড়েছিলেন আকাশে]

[পর্ব ১৪]ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।[আল-কিন্দি:-ফার্মাকোলজির অগ্রদূত, পেরিপ্যাটেটিক দর্শনের জনক,সাংকেতিক বার্তার পাঠোদ্ধারকারী,সাইকোথেরাপি ও সংগীত থেরাপির অগ্রদূত]

[পর্ব ১৫]ইতিহাসের সেরা কিছু মুসলিম বিজ্ঞানী আর তারা যে কারনে বিখ্যাত।[ফাতিমা আল ফিহরি:-বিশ্বের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যে নারী]

22.ওমর খৈয়াম(বাইনমিয়েল থিওরেমের প্রথম আবিষ্কারক,এনালিটিক্যাল জ্যামিতির জনক)

তার পারিবারিক উপাধিটা যথার্থ অর্থেই মাননসই। খৈয়াম’ হচ্ছে তার পারিবারিক উপাধি। এর অর্থ তাঁবু তৈরিকারক। আসলেই তিনি ছিলেন তাঁবু তৈরিকারক। তবে তাঁবু বলে যে বস্তুটির সাথে আমাদের পরিচয়, তিনি সে ধরনের তাঁবু তৈরি করেননি বা করতেন না। তিনি ছিলেন জ্ঞান আর প্রজ্ঞার তাঁবুর তৈরিকারক। পণ্ডিত আর শিক্ষাবিদ মানুষেরা আজও তাঁর সেই জ্ঞান আর তাবুতে সফর করেন।

এই জ্ঞানী আর প্রজ্ঞাবান ব্যক্তিত্বের পূর্ণ নাম গিয়াস আল-দীন আবুল ফাতাহ ওমর ইবনে ইব্রাহিম আল-নিশাপুরী আল-খৈয়ামী। তবে তাঁর জনপ্রিয় নাম ওমর খৈয়াম। এ নামেই গােটা বিশ্বে তিনি সবচে’ বেশি পরিচিতি।

ইরানের নিশাপুর শহরে ওমর খৈয়ামের জন্ম ১৮ মে ১০৪৮ সালে। সে সময়ের খােরাশানের রাজধানী নিশাপুরে। খােরাশানের বর্তমান অবস্থান উত্তর-পূর্ব ইরানে।

খৈয়াম বিশ্বব্যাপী এক সুপরিচিত নাম। তার বেশি পরিচিতি রয়েছে একজন বড় মাপের কবি হিসেবে। তার পরেও তার অভাবনীয় সুনাম আছে একজন গণিতবিদ, জ্যোতির্বিদ, চিকিৎসক ও সেই সাথে দার্শনিক হিসেবেও। তিনি পারস্যের মানুষ না আরবের মানুষ সে ব্যাপারে আছে নানা সন্দেহ। তবে এমন অভিমত আছে, তিনি আরবেরই লােক। তবে স্থায়ী বসবাস গড়ে তুলেছিলেন পারস্যে। সােজা কথায় ইরানে।

তাঁর শৈশবের জীবন সম্পর্কে তেমন কিছুই জানা যায় না। তিনি তাঁর জীবনের বেশির ভাগ জীবন কাটিয়েছেন নিশাপুর আর সমরখন্দে। সমরখন্দ হচ্ছে বর্তমান উজবেকিস্তানের রাজধানী শহর। তখন জ্ঞানার্জনের সুবিখ্যাত কেন্দ্র ছিল বুখারা, বলখ ও ইস্পাহান।

সেখানে তিনি বিখ্যাত মনীষী মহাম্মদ মনসুরীর কাছে শিক্ষা গ্রহণ করেন। পরে তিনি খোরাসানের অন্যতম সেরা শিক্ষক হিসেবে বিবেচিত ইমাম মোয়াফ্ফেক নিশাপুরির শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

খৈয়াম সেসব জায়গায়ও গিয়েছিলেন জ্ঞান অর্জনের তাগিদে। সেখানে তিনি পড়াশােনা করেন। মত বিনিময় করেন বিভিন্ন পণ্ডিতদের সাথে। সমরখন্দের মর্যাদাসম্পন্ন পণ্ডিত আবু তাহের সেখানে তাকে পৃষ্ঠপােষকতা করেন।

ওমর খৈয়াম ছিলেন এক মহান আধ্যাত্মবাদী মানুষ। মিষ্টিসিজম বা অতীন্দ্রিয়বাদ বলে একটা কথা আছে। ইন্তেকালের পর সমাধিস্থ অবস্থায় সৃষ্টিকর্তার সাথে প্রত্যক্ষ সংযােগ স্থাপন সম্ভব। অতীন্দ্রিয়বাদে বিশ্বাসী ব্যক্তিদের মধ্যে এমন বিশ্বাস কাজ করে। এদেরকে বলা হয় অতীইন্দিয়বাদী বা মিস্টিক।

অতীন্দ্রিয়বাদের জগতে ওমর খৈয়ামের যথার্থ অবস্থানের সুপ্রমাণিত সাক্ষ্য বহন করে তার ‘রুবাইয়াত এ ওমর খৈয়াম’ বা ওমর খৈয়ামের চতুর্থ চরণে অন্ত্যমিল যুক্ত চতুষ্পদী কবিতার স্তবক বিশেষে।

দার্শনিকরা একটি বই লিখেও যে ভাব পুরোপুরি হৃদয়গ্রাহী করতে পারেন না, গভীর অর্থবহ চার-লাইনের একটি কবিতার মধ্য দিয়ে ওমর খৈয়াম তা সহজেই তুলে ধরেছেন। তিনি লিখেছেন,


اسرار ازل را نه تو دانی و نه من
وین حرف معما نه تو خوانی و نه من
هست از پس پرده گفتگوی من و تو
چون پرده بر افتد ، نه تو مانی و نه من


“ সৃষ্টির রহস্য জানো না তুমি, জানি না আমি
এ এমন এক জটিল বাক্য যা পড়তে পারো না তুমি, না আমি
পর্দার আড়ালে তোমায় ও আমার মাঝে চলছে এ আলাপ
পর্দা যেদিন উঠে যাবে সেদিন থাকবে না তুমি ও আমি।”

এডওয়ার্ড ফিজারেল্ড এই রুবাইয়াতের ইংরেজি ভাষান্তর প্রকাশ করেন ১৮৩৯ খৃষ্টাব্দে। এই অনুবাদ-কর্ম পশ্চিমা সাহিত্য জগতে আলােড়ন সৃষ্টি করে। অনুবাদিত এ রুবাইয়াত একটি জনপ্রিয় ধ্রুপদ সাহিত্যের মর্যাদা লাভ করে। এটা ছিল জটিল দার্শনিক বাণীর এক মনােমুগ্ধকর উপস্থাপনা। এগুলাের মাধ্যমে তিনি দর্শনের নানা বাণী বিশ্ববাসীর কাছে পৌছে দেন। যদিও এর কোন অনুবাদই আজ পর্যন্ত মূল রুবাইয়াতের সঠিক সৌন্দর্য তুলে ধরতে পারেনি। এ সীমাবদ্ধতা থাকার পরও ফিটজজারেন্ডের অনুবাদক ছিল খুবই সফল এক অনুবাদ। বাংলাদেশের বইয়ের বাজারে এখন নানা জনের বাংলা করা রুবাইয়াত কিনতে পাওয়া যায় ।

তারপরেও ওমর খৈয়ামের সবচেয়ে বড় মাপের অবদান ছিল বীজগণিত বিষয়ে। তিনি উদ্যোগী হয়েছিলেন বিভিন্ন সমীকরণ বিভাজনের কাজে। এর মধ্যে ত্রিঘাত সমীকরণও অন্তর্ভুক্ত ছিল।বীজগণিতে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান তিনিই প্রথম করেন।

তিনি বেশকিছু সমীকরণের সমাধানও উপস্থাপন করেছিলেন। কিউবিক ইকয়েশন বা ত্রিঘাত সমীকরণের জ্যামিতিক সমাধান ছিলাে তার এক উল্লেখযােগ্য অবদান।

তার বীজগণিতের গুরুত্বপূর্ণ “Treatise on Demonstration of Problems of Algebra“ গ্রন্থে তিনি ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধানের একটি পদ্ধতি বর্ণনা করেন। এই পদ্ধতিতে একটি পরাবৃত্তকে বৃত্তের ছেদক বানিয়ে ত্রিঘাত সমীকরণের সমাধান করা হয়।

তিনি ১৩ ধরনের কিউবিক ইকুয়েশন বা ত্রিঘাত সমীকরণ চিহ্নিত করেন।

সমীকরণগুলো তিনি বিভাজন করেছেন সমীকরণের জটিলতার ওপর ভিত্তি করে। তিনি দেখিয়েছেন, উচ্চতর ঘাতের সমীকরণে থাকবে বেশি পদ কিংবা বেশি বেশি পদের সম্মিলন।

তিনি তৈরি করেছিলেন দ্বিপদী রাশি বা বাইনমিয়েল এক্সপ্রেশন, যেখানে এর শক্তিসংখ্যা ছিল ধনাত্মক ও পূর্ণসংখ্যা। তাঁকে বিবেচনা করা হয় বাইনমিয়েল থিওরেম বা দ্বিপদী তত্ত্বের প্রথম আবিষ্কারক। তিনি বের করেছিলেন দ্বিপদী সহগও।

এই বাইনােমিয়াল থিউরাম’ এর আবিষ্কার কর্তা হিসেবে বৈজ্ঞানিক নিউটন আজ পৃথিবীতে বিখ্যাত হয়ে আছেন। অথচ তারও শত শত বছর পূর্বে কবি হিসেবে পরিচিত বৈজ্ঞানিক ওমর খৈয়াম তা আবিষ্কার করে গেছেন।

তিনিই সর্বপ্রথম এলজাবরার সমীকরণগুলাের শ্রেণী বিন্যাসের চেষ্টা করেন। জ্যামিতি সমাধানে বীজগণিত এবং বীজগণিত সমাধানে জ্যামিতি পদ্ধতি তাঁরই বিস্ময়কর আবিষ্কার। ভগ্নাংশীয় সমীকরণের উল্লেখ ও সমাধান করে ওমর খৈয়ামই সর্ব প্রথম বীজগণিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন।

ওমরের আর একটি বড় অবদান হলো ইউক্লিডের সমান্তরাল স্বীকার্যের সমালোচনা যা পরবর্তী সময়ে অ-ইউক্লিডীয় জ্যামিতির সূচনা করে।ধারণা করা হয়, রনে দেকার্তের আগে তিনি বিশ্লেষণী জ্যামিতি আবিষ্কার করেন।

খৈয়াম আধুনিক যুগের আবির্ভাবের আগে এলজাব্রা বা বীজগণিতের ওপর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থের লেখক হিসাবে স্বীকৃত। বীজগণিতের ওপর তিনি তিনটি বই লিখেছেন। প্রথম বইটির নাম মুশকিলাত আল-হিসাব’, দ্বিতীয় বইটির নাম শারাহ-ই- মুসকিল মিন কিতাব আল-মুসিকী’ এবং তৃতীয় বইটির নাম ‘রিসালা ফি আল-বারাহিন আলা মাসায়েল আল-জাবর ওয়াল মুকাবালা’।

খৈয়ামের তৃতীয় বইটি ট্রীটিজ অন ডেমােন্সট্রেশন অব প্রবলেমস ইন এলজাব্রা’ হিসাবে পরিচিত। ইংরেজি অনুবাদে বইটির শিরােনাম হলাে ‘দি এলজাব্রা অব ওমর খৈয়াম’। ১০৭০ সালে লিখিত বইটি সংক্ষেপে মুকাবিলা’ নামেও পরিচিত। গ্রন্থটি লেখার সময় খৈয়ামের বয়স ছিল ২৫ বছরের কম।

১০৭০ খ্রিস্টাব্দে তার পুস্তক মাকালাত ফি আল জাবর্ আল মুকাবিলা প্রকাশিত হয়। এই পুস্তকে তিনি ঘাত হিসাবে সমীকরণের শ্রেণীকরণ করেন এবং দ্বিঘাত সমীকরণের সমাধানের নিয়মাবলি লিপিবদ্ধ করেন।

এই পুস্তকে তিনি কোনিক সেকশনের বিভিন্ন ছেদকের সাহায্যে নানারকম ত্রিঘাত সমীকরণ সমাধান করেন। অর্থাৎ জ্যামিতিক পদ্ধতিতে বাস্তব মুল আছে এমন ত্রিঘাত সমীকরণ প্রথম সমাধান করেন। তিনি বর্তমানে প্যাসকেলের ত্রিভুজ নামে পরিচিত দ্বিপদী সহগের ত্রিভুজাকারও লিখেছিলেন।

ওমর খৈয়ামের লেখা বই মাকালাত ফি-আল-জাবের ওয়া-আল-মােকাবিলা’(Treatise on Demonstration of Problems of Algebra বীজগণিত বিষয়ে একটি মাস্টারপীস’ বা ‘সেরা বই হিসেবে বিবেচিত।যার উপর তাঁর গাণিতিক খ্যাতি মূলত টিকে আছে। এই বইটি বীজগণিতের উন্নয়নে একটি প্রতিনিধিত্বশীল বই হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

জ্যোতির্বিদ হিসেবে ওমর খৈয়াম একটি ক্যালেন্ডার উদ্ভাবন করেন। এটি অসাধারণভাবে সঠিক ছিল। নিশ্চিতভাবেই এটি ছিলাে গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডারের চেয়ে শ্রেয়তর।

সেলজুক সুলতান মালিক শাহ জালাল-আল-দ্বীন র্যা(Ray) নামের এক জায়গায় গড়ে তােলা নতুন এক মান মন্দিরে ডেকে নেন। তখন সময় ছিলাে ১০৭৪ খৃষ্টাব্দ । সুলতান তাকে দায়িত্ব দেন একটি সঠিক সৌর ক্যালেন্ডার উদ্ভাবনের। রাজস্ব আদায় ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্যে এ ধরনের একটি ক্যালেন্ডার উদ্ভাবনের প্রয়ােজন ছিল। বছরে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সঠিক সময়ে সম্পাদন নিশ্চিত করার জন্যে এর প্রয়ােজন ছিল।

ওমর খৈয়াম সাফল্যের সাথে তেমনি একটি ক্যালেন্ডার উদ্ভাবন করেন। তিনি তা উৎসর্গ করেন তাঁর পৃষ্ঠপােষক সুলতান জালাল আল-দ্বীনকে। এই ক্যালেন্ডারের নাম দেয়া হয় ‘আল- তারিখ আল-জালালী’। এতে ৩৩৭০ বছরে একদিনের মতাে সময়ের গণ্ডগােল ছিল। অপরদিকে গ্রেগরীয় ক্যালেন্ডার একদিনের গােলমাল ছিল ৩৩৩০ বছরে।

এছাড়াও, ওমর খৈয়াম বছরের দৈর্ঘ্য 365.24219858156 দিন হিসাবে পরিমাপ করেছিলেন।এই ফলাফল সম্পর্কে দুটি মন্তব্য করা যায়।প্রথমত,আমরা এখন জানি যে বছরের দৈর্ঘ্য কোনও ব্যক্তির জীবদ্দশায় ষষ্ঠ দশমিক স্থান পর্যন্ত পরিবর্তিত হয়।

দ্বিতীয়ত,এটি অবিশ্বাস্যভাবে সঠিক।

তার হিসাব মতে,19 শতকের শেষে বছরের দৈর্ঘ্য 365.242196 দিন, যখন বর্তমানে এটি 365,242190 দিন।

ওমর একটি তারাচিত্র বা খ‌ন্ড চিত্রও তৈরি করেন তবে সেটি এখন আর পাওয়া যায় না।খৈয়াম আপেক্ষিক গুরুত্ব বা স্পেসিফিক গ্রাভিটি পরিমাপের সঠিক পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।

মহাকালের করাল গ্রাস থেকে ওমর খৈয়ামের ১০টি বই ও ৩০টি প্রবন্ধ রক্ষা পেয়েছে। এগুলাের মধ্যে চারটি হলাে গণিতের, একটি এলজাব্রার, একটি জ্যামিতির, একটি পদার্থবিদ্যার এবং তিনটি মেটাফিজিক্সের ওপর লেখা বই। বইগুলাে হলাে:

(১) রুবাইয়াত

(২) মিজান-উল-হিকাম

(৩) নিজাম-উল-মুলক

(৪) রিসালা ফি আল-বারাহিন আলা মাসায়েল আল-জাবর ওয়াল মুকাবালা

(৫) মুশকিলাত আল-হিসাব

(৬) নাওয়াজিম আশকিনা

(৭) আল-কাউল ওয়াল তাকলিক

(৮) রিসালা মুকাবাহ

(৯) দার ইলমে কুল্লিয়াত

(১০) নওরােজ নামা

গণিত বিষয়ের উন্নয়নে ওমর খৈয়ামের স্বীকৃত অবদান খুবই পরিব্যাপক গণিত বিষয়ে তার জ্ঞান অন্যদের তুলনায় ছিল এক শতাব্দী অগ্রবর্তী। বিশেষ করে এনালাইটিক্যাল জিওমেট্রি বা বিশ্লেষণ গণিতে তাঁর অবদান অসাধারণ ওমর খৈয়ামের গাণিতিক অবদান পরবর্তীতে কিউবিক ইকুয়েশনে সমাধানে ব্যবহার করেছেন ডেসকার্ট।

কবিখ্যাতি তার গণিতবিদ হিসেবে খ্যাতিকে পেছনে ঠেলে দেয়। তিনি ছিলেন একজন দার্শনিক বিজ্ঞানী। মানুষের জ্ঞান ও প্রজ্ঞ সম্প্রসারণে তাঁর অবদান সীমাহীন।বহুমুখী প্রতিভার দৃষ্টান্ত দিতে বলা হলে বিশ্বসাহিত্য কিংবা ইতিহাসে যাদের নাম উপেক্ষা করা কঠিন ওমর খৈয়াম তাদের মধ্যে অন্যতম ও শীর্ষস্থানীয়।

৪ ডিসেম্বর ১১৩১ সালে নিশাপুর, খোরাসান, পারস্যে বরেণ্য এই কবির মৃত্যু হয়।নিশাপুরে ওমরের সমাধি দেখতে অনেকটা তাঁবুর মতো।যা ইরানি স্থাপত্যকলার একটি মূল আকর্ষণ হিসাবে এখনাে বিদ্যমান। তার কয়েকটি বিখ্যাত কবিতা সেখানে উৎকীর্ণ করা আছে।

ওমর খৈয়ামের প্রতি সম্মান দেখিয়ে ১৯৭০ সালে চাঁদের একটি গহ্বরের নামকরণ করা হয়েছে। ৫৮ দশমিক শূন্য এস দ্রাঘিমাংশ এবং ১০২ দশমিক ১ ডব্লিউ অক্ষাংশে এ গহ্বরের ব্যাস ৭০ দশমিক শূন্য ৫ কিলােমিটার।

৩০৯৫ ওমর খৈয়াম’ নামে একটি গ্রহের নামকরণ করা হয়েছে। ১৯৮০ সালে সােভিয়েত জ্যোতির্বিজ্ঞানী লুদমিলা ঝুরাভলিয়ােভা এ গ্রহ আবিষ্কার করেন।

Leave A Reply

Your email address will not be published.